ঢাকা, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

ট্রাম্পের শুল্কে মার্কিন শেয়ারবাজারে ধস: ৫ ট্রিলিয়ন ডলার উধাও

২০২৫ এপ্রিল ০৫ ১১:২০:৪১
ট্রাম্পের শুল্কে মার্কিন শেয়ারবাজারে ধস: ৫ ট্রিলিয়ন ডলার উধাও

ডুয়া নিউজ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় চীনও আমেরিকান পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। চীনের এই ঘোষণার ফলে গত শুক্রবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ওয়াল স্ট্রিটে ব্যাপক দরপতন ঘটেছে। যার ফলে দুই দিনের ব্যবধানে মার্কিন শেয়ারবাজার থেকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার উধাও হয়ে গেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পরিস্থিতি একটি বাণিজ্য যুদ্ধকে উসকে দিয়েছে। যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে এবং আসন্ন মন্দার ভয়কে বাড়িয়ে তুলেছে। মার্কিন শেয়ারবাজারের ডাও জোন্স, এসঅ্যান্ডপি-৫০০ এবং নাসডাক কম্পোজিট—এই তিন সূচক ২০২০ সালের মধ্যে তাদের সবচেয়ে বড় পতন দেখেছে।

এসঅ্যান্ডপি-৫০০ সূচক দিনের শেষে ৬ শতাংশ এবং গত দুই দিনে ১০ শতাংশের বেশি কমেছে, ফলে মাত্র দুই দিনে এই সূচকের বাজার মূল্য ৫ ট্রিলিয়ন ডলার নেমে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মিলিয়ে ডাও সূচক ৯.৩ শতাংশ এবং নাসডাক সূচক ১১.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের কার্যক্রম বিশ্বজুড়ে মন্দার আশঙ্কা বাড়িয়েছে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর বাজার মূলধন থেকে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার উধাও হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আতঙ্ক পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং শেয়ারবাজারের অনাস্থা ও ‘ভীতি সূচক’ সিবিওই ভোলাটিলিটি ইনডেক্স ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।

বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগ্যানের মতে, বছরের শেষ নাগাদ বিশ্ব অর্থনীতি মন্দায় প্রবেশ করার আশঙ্কা ৬০ শতাংশ, যা আগে ৪০ শতাংশ ছিল। লন্ডনের ট্র্যাডিশন সংস্থার মার্কেট অ্যান্ড ইক্যুইটি স্ট্র্যাটেজিস্ট স্টেফান ইকোল মন্তব্য করেছেন, এটি তাৎপর্যপূর্ণ এবং এর এখানেই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

শুক্রবার ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছে। এসব প্রতিক্রিয়া বিনিয়োগকারীদের বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির স্থিতিশীলতার আশাবাদের বিশ্বাসকে দুর্বল করে দিয়েছে। ইউবিএস ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের পরিচালক মারিয়াম অ্যাডামস বলেছেন, বাণিজ্য যুদ্ধের সম্ভাবনা যে কোনো সময় শুরু হতে পারে।

ইন্টারেকটিভ ব্রোকারসের প্রধান কৌশলবিদ স্টিভ সোসনিক বলেছেন, এখন পরিস্থিতি কিভাবে পৌঁছাবে তা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ওপর নির্ভর করছে।

এদিকে, বাজারের চাপ বাড়ার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গলফ খেলে সময় কাটাচ্ছিলেন এবং সেখান থেকে মার্কিন অর্থনীতির বিজয়ের নিশ্চয়তা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক চ্যালেঞ্জিং বার্তা পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, “যেসব বিনিয়োগকারী যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন, তাদের বলছি, আমার নীতি কখনো পরিবর্তন হবে না। এটি ধনী হওয়ার সময়, আগের চেয়েও বেশি ধনী হওয়ার!”

বেইজিংয়ের পদক্ষেপের পর ট্রাম্প বলেন, চীন ভুল চাল চালিয়েছে, তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের টিম এই বাজার অস্থিরতাকে সামঞ্জস্য বজায় রাখার কৌশল হিসেবে দেখছে, যা দীর্ঘমেয়াদে উপকারী হতে পারে বলে তারা মনে করছে।

ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল শুল্কগুলোর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এ শুল্ক প্রত্যাশার পাশাপাশি উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও ধীর প্রবৃদ্ধির ঝুঁকি বৃদ্ধি করেছে।

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে