ঢাকা, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

হৃদপিণ্ডের চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি; চালের চেয়ে ক্ষুদ্র পেসমেকার আবিষ্কার

২০২৫ এপ্রিল ০৪ ১৫:৪৮:৪০
হৃদপিণ্ডের চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি; চালের চেয়ে ক্ষুদ্র পেসমেকার আবিষ্কার

ডুয়া ডেস্ক: যত দিন যাচ্ছে, ততই নতুন নতুন আবিষ্কার করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এবার যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রাকৃতির পেসমেকার তৈরি করেছেন। পেসমেকারটির দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার, প্রস্থ ১ দশমিক ৮ মিলিমিটার এবং পুরুত্ব ১ মিলিমিটার।

নতুন পেসমেকারটি আকারে এতটাই ছোট যে, এটি একটি চালের কনার চেয়েও কম জায়গা দখল করে। তবে, কার্যকারিতার দিক থেকে এটি বর্তমানে বাজারে থাকা যেকোনো পেসমেকারকে টেক্কা দিতে সক্ষম।

স্বাভাবিকভাবে আমাদের হৃদপিণ্ড প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার স্পন্দিত হয়। যদি এই গতি ব্যাহত হয়, তাহলে গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যুও ঘটতে পারে। যাদের হৃদস্পন্দনজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ স্বাভাবিক রাখতে যে যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয়, সেটি পেসমেকার নামে পরিচিত।

বর্তমানে বাজারে প্রচলিত পেসমেকারগুলো হৃদপিণ্ডে প্রতিস্থাপনের জন্য অস্ত্রোপচার বা সার্জারি প্রয়োজন হয়। যদি কোনো কারণে পেসমেকারের প্রয়োজন শেষ হয়ে যায়, তাহলে তা শরীর থেকে বের করার জন্যও অস্ত্রোপচার বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। যেহেতু পেসমেকার একটি ব্যাটারিচালিত যন্ত্র, তাই এর ব্যাটারির মেয়াদ একসময় শেষ হয়ে যায়। তখন ব্যাটারি রিচার্জ কিংবা নতুন ব্যাটারি স্থাপন করতে হয়, যা একটি জটিল এবং ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া।

চালের চেয়েও ছোটো নতুন যে পেসমেকারটি মার্কিন বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন, এটি সিরিঞ্জের মাধ্যমে হৃদপিণ্ডে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। অর্থাৎ এই পেসমেকারের জন্য কোনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে না। এছাড়া যেহেতু এটি তারবিহীন পেসমেকার, তাই বাইরে থেকে তারের মাধ্যমে এটি রিচার্জ করার প্রয়োজন পড়ে না।

এ বিষয়ে নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী দলটির প্রধান জন এ রজার্স জানিয়েছেন, "পেসমেকারটিতে একটি গ্যালভানিক সেল রয়েছে। এই সেলটি একধরনের সরল ব্যাটারি এবং রাসায়নিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরে সক্ষম।"

হৃদপিণ্ডে প্রতিস্থাপনের পর পেসমেকারের চারপাশের বায়োফ্লুইডের সংস্পর্শে আসামাত্র এর গ্যালভানাজিং সেল সক্রিয় হয়ে যায় এবং পেসমেকারটি কাজ শুরু করে।

“অনেক রোগী আছেন যাদের হৃদপিণ্ডের সমস্যা রয়েছে এবং পেসমেকারের প্রয়োজন—কিন্তু অস্ত্রোপচার তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া, বিশ্বের শতকরা এক ভাগেরও বেশি শিশু হৃদপিণ্ডের সমস্যার সঙ্গে জন্মগ্রহণ করে। তাদের জন্য অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পেসমেকার স্থাপন করা সম্ভব নয়। সেজন্য আমরা এমন একটি যন্ত্র চেয়েছিলাম, যা কোনো জটিলতা ছাড়াই মানবদেহে প্রবেশ করানো যায়। আমাদের আশা, এটি চিকিৎসাক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।”

সূত্র : এএফপি

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য - এর সব খবর



রে