ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

বঙ্গোপসাগরে সবচেয়ে দীর্ঘ উপকূলরেখার দাবি ভারতের

২০২৫ এপ্রিল ০৩ ২০:৪৫:২৮
বঙ্গোপসাগরে সবচেয়ে দীর্ঘ উপকূলরেখার দাবি ভারতের

ডুয়া ডেস্ক: সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ‘সেভেন সিস্টার্স’ খ্যাত সাতটি রাজ্য নিয়ে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি ভারতীয় উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে স্থলবেষ্টিত (landlocked) এবং বাংলাদেশকে ওই অঞ্চলের সমুদ্র প্রবেশাধিকারের প্রধান অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করেন।

এতে ভারতজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, বঙ্গোপসাগরে সবচেয়ে দীর্ঘ উপকূলরেখা ভারতের রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মন্তব্যের পর এস জয়শঙ্কর তার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ভারতের ৬ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা রয়েছে, যা বঙ্গোপসাগরের সবচেয়ে বড় উপকূল।’

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ভারতের পাঁচটি বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক সংযোগ রয়েছে এবং বিশেষ করে ভারতীয় উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিমসটেকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সংযোগ কেন্দ্র’ হিসেবে কাজ করছে। এখানে সড়ক, রেলপথ, পানিপথ, গ্রিড এবং পাইপলাইনের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, "আমরা জানি যে একটি বৃহত্তর ভৌগোলিক অঞ্চলের মধ্যে পণ্য, পরিষেবা এবং মানুষের সুষ্ঠু প্রবাহের জন্য আমাদের সহযোগিতা এবং সুবিধা প্রদান অপরিহার্য। এই ভূকৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে গত দশক ধরে বিমসটেককে শক্তিশালী করার জন্য আমরা আরও শক্তি ও মনোযোগ বরাদ্দ করেছি। আমরা বিশ্বাস করি যে সহযোগিতা একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত, যা কোনো পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে নয়।"

এছাড়া গত মাসে চার দিনের চীন সফরে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, "ভারতের পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য, যেগুলো 'সেভেন সিস্টার্স' নামে পরিচিত, স্থলবেষ্টিত এবং সমুদ্রের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের কোনো সহজ উপায় নেই। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই অঞ্চলের জন্য সমুদ্রপথের একমাত্র অভিভাবক বাংলাদেশ। এটি একটি বিশাল সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে, যা চীনা অর্থনীতির সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে।"

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই মন্তব্য নিয়ে ভারতের রাজনীতিবিদ, সাবেক আমলা ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে