ঢাকা, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫, ১৯ চৈত্র ১৪৩১

মার্কিন যুদ্ধবিমানের উপর নিষেধাজ্ঞা

২০২৫ এপ্রিল ০২ ১৮:১২:৩৪
মার্কিন যুদ্ধবিমানের উপর নিষেধাজ্ঞা

ডুয়া ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বোমা হামলা চালানোর হুমকি দেওয়ার পর সৌদি আরবসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোকে ইরানের ওপর আক্রমণ করার জন্য তাদের বিমানঘাঁটি বা আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। এ ব্যাপারে উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েত সকলেই যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা বা অঞ্চলগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণের জন্য ব্যবহার করতে দেবে না। এর মধ্যে জ্বালানি ভরানো বা উদ্ধার অভিযানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো যুদ্ধের অংশ হতে চায় না।

ইরানকে পারমাণবিক চুক্তির আলোচনার টেবিলে চাপ প্রয়োগ করতে এবং ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক বিমান হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু এ সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর এই কঠোর অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এটি যদি ইরান বুঝতে পারে যে, তাদের তেল সমৃদ্ধ আরব মিত্ররা মার্কিন হামলার পক্ষে নয় তাহলে তারা আলোচনায় আরও শক্ত অবস্থান নিতে পারে। যদিও উপসাগরীয় দেশগুলো হুথিদের হামলার বিষয়ে বেশ সহনশীল অবস্থান নিয়ে রয়েছে। এক সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক হামলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে লঞ্চপ্যাড হিসেবে ব্যবহার করছে, তবে কোন ঘাঁটি ব্যবহার হচ্ছে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আত্মবিশ্বাসী যে তাদের কাছে পর্যাপ্ত উপসাগরীয় সমর্থন রয়েছে। এমনকি যদি কোনো আমেরিকান বিমান অভিযানের সময় ভূপাতিত হয় তবুও কোনো ঘাঁটি থেকে নতুন বিমান উড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো বাধা আসবে না এমন ধারণা প্রকাশ করা হয়েছিল।

ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের বিরুদ্ধে 'সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ' নীতিতে অটল রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান চালাতে উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকার জন্য অনুরোধ করে আসছে। তবে ইরানে হামলার বিষয়ে আরব দেশগুলোর ভেটো এ পরিকল্পনাকে কঠিন করে তুলছে।

মার্চ মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ওয়াশিংটন ডিসিতে আমিরাত এবং সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠক থেকেই ইয়েমেনে হামলার অনুমতি নেয়া হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৩০ মার্চ এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, যদি তেহরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় না আসে, তবে দেশটির ওপর বোমা হামলা এবং শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করেন। ওই চুক্তির মাধ্যমে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞামুক্ত হয়েছিল। তবে চুক্তি বাতিলের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে ইরান আরও বেশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করে।

ইরান এখনো নতুন কোনো সমঝোতায় রাজি হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাঠানো একটি চিঠির জবাব দেওয়া হয়েছে, যা ওমানের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল। চিঠিতে ট্রাম্প নতুন একটি পরমাণু চুক্তি করতে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বে হামলার পর, যুক্তরাষ্ট্র জর্ডান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ওপেন সোর্স বিশ্লেষকদের দ্বারা এক্স-এ শেয়ার করা ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক পণ্যবাহী বিমানের সংখ্যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র বি-২ বোমারু বিমান রাখছে।

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে