ঢাকা, রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫, ১৬ চৈত্র ১৪৩১

অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করতে নতুন পরিকল্পনায় আওয়ামী লীগ

২০২৫ মার্চ ২৮ ১১:০৬:৩৬
অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করতে নতুন পরিকল্পনায় আওয়ামী লীগ

ডুয়া ডেস্ক: ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগের পালাতক নেতারা খোলস ছেড়ে গর্ত থেকে বেরিয়ে আসছেন। বিশেষত ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেয়া দলটির সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং শীর্ষ নেতারা ইফতার পার্টি বা অন্য নানা আয়োজনের মাধ্যমে নতুন ষড়যন্ত্রে জড়াচ্ছেন। মূলত তাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের ভিতরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে উৎখাত করা। এবার তাদের টার্গেট ঈদযাত্রা।

ঢাকা নদীবন্দর (সদরঘাট) এবং লঞ্চগুলোর নিরাপত্তায় ত্রুটি রয়েছে। এসব নিরাপত্তাহীনতার সুযোগ নিয়ে নাশকতাকারীরা ঈদযাত্রার সময় নৌপথে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারে বলে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়, কোস্ট গার্ড, আনসার ভিডিপি, পুলিশ এবং বিআইডব্লিউটিএতে পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের জন্য প্রতিবেদনে ১১টি সুপারিশ করা হয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে দেশীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করছে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠী, বিভিন্ন সময়, খুনি, ছিনতাইকারী, ধর্ষক, অগ্নিসংযোগকারী এবং আন্দোলনকারী সেজে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা ঈদযাত্রাকে এক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে এবং বাস, ট্রেন এবং লঞ্চগুলোকে টার্গেট করেছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, তারা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন পেয়েছেন এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ঈদযাত্রার সময় অধিকতর সুরক্ষার জন্য প্রতিটি লঞ্চে আনসার সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং কিছু নৌপথে টহলদারি চালানো হবে।

তবে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সদরঘাট এবং লঞ্চের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সদরঘাটের বিভিন্ন গেট ও গ্যাংওয়েতে কোন তল্লাশি ব্যবস্থা নেই, সিসি ক্যামেরা অচল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল এবং অতিরিক্ত লোকবলের নিয়োগের ফলে নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া লঞ্চের ইঞ্জিন রুমে রান্না করার জন্য গ্যাস সিলিন্ডার বা কেরোসিন চুলা ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অগ্নিনিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১১টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আলাদা গেট নির্ধারণ, প্রবেশপথে আর্চওয়ে স্থাপন, নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন, লঞ্চের কেবিনে যাত্রীদের এনআইডি কার্ড যাচাই করা, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, এবং লেবার ও হকারদের দৌরাত্ম্য কমানো।

এছাড়া যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদরঘাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাড়তি উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে