ঢাকা, রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫, ১৬ চৈত্র ১৪৩১

বাংলাদেশকে মহাসাগরগামী ৪ জাহাজ কেনার অর্থ দেবে চীন

২০২৫ মার্চ ২৭ ১৭:৩২:০৮
বাংলাদেশকে মহাসাগরগামী ৪ জাহাজ কেনার অর্থ দেবে চীন

ডুয়া ডেস্ক: বাংলাদেশ ও চীন তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ব্যাপারে একমত হয়েছে। বৃহস্পতিবার চীন ঘোষণা করেছে যে তারা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সর্বাত্মক সমর্থন প্রদান করবে।

চীনের নির্বাহী উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শ্যুয়েশিয়াং এবং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস হাইনান প্রদেশের বোয়াও শহরে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে এক বৈঠক করেন। এরপর দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ, বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছে। এ বছর বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উভয় পক্ষ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শ্যুয়েশিয়াং বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং আপনার সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন’। তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বলে চীন আশাবাদী।’

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস বাংলাদেশের ‘ওয়ান চায়না’ নীতির প্রতি দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জানান, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI)-এ যোগ দিতে পেরে গর্বিত।

ঢাকা চীনের কাছ থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন এবং জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সহায়তা চেয়েছে, সেইসাথে চীন থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার ৩ শতাংশ থেকে ১-২ শতাংশে নামিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছে। চীনা অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলোর ফি মওকুফের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ চীনা উৎপাদন শিল্পের স্থানান্তরকে স্বাগত জানাবে, বিশেষত তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যানবাহন, হালকা যন্ত্রপাতি, উচ্চ প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স, চিপ উৎপাদন এবং সৌর প্যানেল শিল্পের ক্ষেত্রে চীনের বিনিয়োগকে গুরুত্ব দেয়।

উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শ্যুয়েশিয়াং জানান, বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার পরেও ২০২৮ সাল পর্যন্ত চীনে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত এবং কোটামুক্ত সুবিধা থাকবে। তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছে এবং মংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং দাশেরকান্দি পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন করবে।

ডিং শ্যুয়েশিয়াং আরও জানান, গত বছর বাংলাদেশ থেকে আম চুক্তিভিত্তিক আমদানির জন্য চীন একটি প্রটোকল স্বাক্ষর করেছে এবং আগামী গ্রীষ্মেই চীনে বাংলাদেশি আম রপ্তানি শুরু হবে। এছাড়াও কাঁঠাল, পেয়ারা এবং জলজ পণ্য আমদানির জন্য চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি আরও বলেন, চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি বৃত্তির সুযোগ প্রদান করবে। বর্তমানে চীনে হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে।

চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, চীন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জন্য চারটি মহাসাগরগামী জাহাজ কেনার জন্য অর্থায়ন করবে এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপ চালিয়ে যেতে চীন সহযোগিতা করবে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস চীনের এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকের এই বৈঠক বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’ তিনি আরও বলেন, ‘আসুন আমরা একসঙ্গে কাজ করে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি নতুন যুগের সূচনা করি।’

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি, রেল ও সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে